সিবিএন ডেস্ক

জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো চিঠিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চিঠিটিকে ‘আদালত অবমাননাকর’ বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে বিদেশ থেকে কোনো ল ফার্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানোর আইনে কোনো সুযোগ নেই। এটি বিচার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের কোনো চিঠি প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে পায়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর রেজিস্ট্রার বা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়েও কোনো চিঠি জমা পড়েনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে।

জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইন সংস্থা Kingsley Napley শেখ হাসিনার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদানকে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ডের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। বিচার চলাকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, এই রায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ-এর হাতে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিঠির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। তবে প্রসিকিউশন বলছে, আইনি কাঠামোর বাইরে এমন উদ্যোগ বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।